Showing posts with label একটু বড় গল্প. Show all posts
ফেরা / শেষ কিস্তি
By : Sayantari Ghosh
পাঁচ
পার্কিং প্লেসের ছাতিম গাছটার গায়ে হেলান দিয়ে চুপ করে বসেছিল টুপুর। মাঝেমাঝে এক-একটা পুরোনো বৃষ্টির ফোঁটা গাছের পাতাকে ছুঁয়ে থাকতে থাকতে হঠাত্ সব ভুলে গিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল ওর গায়ে... রাত আড়াইটে অব্দি ঝিপঝিপ করে বৃষ্টি হয়েছে টানা... প্রথমে গুমরে গুমরে... তারপর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে... শেষে ডুকরে ভিজিয়েছে সারা রাত ধরে... এখন থেমে গেছে... সব... সব থেমে গেছে...
পার্কিং প্লেসের ছাতিম গাছটার গায়ে হেলান দিয়ে চুপ করে বসেছিল টুপুর। মাঝেমাঝে এক-একটা পুরোনো বৃষ্টির ফোঁটা গাছের পাতাকে ছুঁয়ে থাকতে থাকতে হঠাত্ সব ভুলে গিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল ওর গায়ে... রাত আড়াইটে অব্দি ঝিপঝিপ করে বৃষ্টি হয়েছে টানা... প্রথমে গুমরে গুমরে... তারপর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে... শেষে ডুকরে ভিজিয়েছে সারা রাত ধরে... এখন থেমে গেছে... সব... সব থেমে গেছে...
এরকম মেঘলা ফ্যাকাশে ভোর আগে কোনোদিন হয় নি কখনও! আকাশে থোক থোক কালি... মেঘেদের গায়ে আর মেঘেদের ওপারে যে থাকে, তার গায়েও... এ কালি কি যাবে কোনোদিন...? এ ক’দিনে কতবার কতভাবে একটিমাত্র প্রার্থনার বদলে সবকিছু সঅবকিছু বন্ধক রেখে দিতে চেয়েছে টুপুর... এটুকু দেওয়া যেত না...না?
বসে বসে ভাবছিল টুপুর। ছকে বাঁধা ভাবনা নয়... জিগেস করলে গুছিয়ে বলাও যাবে না যে কি ভাবা হল... ছন্নছাড়া টুকরো চিন্তা সব... অপ্রয়োজনীয়... হয়তঃ এখন অপ্রাসঙ্গিকও... কিন্তু অপ্রতিরোধ্য...
পাঁচদিন পাঁচরাত বাদে আজ বাড়ি ফিরবে টুপুর... প্রতিদিনের মত মা আর হাত ধরে টানাটানি করবে না আজ সন্ধ্যেয়... রাতে কে কে থাকবে এখানে, সেই নিয়ে হিসেব হবে না বিকেলের চায়ের সাথে... মিতুলদা গম্ভীর হয়ে বলবে না, “আচ্ছা, তাহলে আমিই...”
সারাদিনটা আজ অন্যরকম হবে... বাড়ি ফেরার দিনটা অন্যরকম হবে, সেটা অবশ্য জানতো টুপুর... কিন্তু এই নতুন ‘অন্যরকম’টার কথা কখখনো ভাবা হয় নি...
কেন...? সাহস হয় নি বলে...? কে জানে...
অন্যরকম ভোর দিয়ে শুরু... ভয়-জড়ানো টেলিফোন, ছমছমে কান্না আর ভোরের আলো একসাথে এসেছে আজ... তারপর থেকে এখনও চলছে কান্নার থেমে যাওয়া আর আবার করে কালবৈশাখীর মত ফিরে আসা... আর সাথে চলছে অপেক্ষা... কলকাতা, ধানবাদ, মেদিনীপুর থেকে রাত-থাকতে বেরিয়ে পড়া কিছু উদভ্রান্ত মানুষের অপেক্ষা... এরপর আরও অন্যরকম... এখান থেকে বেরিয়ে বাড়ি... পাড়া... তারপর দাদুমনির স্কুল... তারপর..............................
উফ! কোথাও আর তিলমাত্র জোর নেই মনে হচ্ছে... এখন যদি ঘুমিয়ে পড়া যেত? বা যদি ঘুম ভেঙে গিয়ে দেখা যেত যে এসবকিছু মারাত্মক দুঃস্বপ্ন একটা...? এখন অন্ধকার হয়ে যেত যদি? জমাট অন্ধকার... কারো মুখ দ্যাখা যাবে না... কোন কান্নার শব্দ কানে আসবে না... এই পাঁচদিনের গায়ে জড়িয়ে থাকা বৃষ্টির গন্ধটাও দূর হয়ে যাবে... নিঝুম অন্ধকার... যাতে একটাও কুরে কুরে খাওয়া প্রশ্ন থাকবে না... শুধু আশ্রয় থাকবে... স্বস্তির... শান্তির...
ধোঁয়াশার মত করে ক্লান্তি জমছে চোখের পাতার ওপর... ফ্যাকাশে কালির ভোর ফিকে হয়ে যাচ্ছে... বৃষ্টিধোয়া আকাশে কাচের মতন রোদ্দুর... বাঁক দেওয়া চন্দনা ওই তো কাছেই... ধাপ কেটে ঘাট নেমে গেছে দালান বাড়ির পাশ থেকে... বোধন বেলগাছটায় কতদিন ধূপ দ্যাখায় না কেউ... কালিতলা খালি... পাটমহাদেব এক্কেবারে একলা...
আচ্ছা, খালকুলার আমের বাগানে কি এখনও ওভাবেই সত্যি সত্যি গাছ ভেঙে পড়ে ফলের ভারে...? সাইকেলের স্পোক দিয়ে তৈরী ক্যাঁটা দিয়ে আকাশভাঙা বৃষ্টিতে আজো বুঝি কেউ অকারনেই রাশি রাশি শোল মাছ ধরে.....................?
আচ্ছা, খালকুলার আমের বাগানে কি এখনও ওভাবেই সত্যি সত্যি গাছ ভেঙে পড়ে ফলের ভারে...? সাইকেলের স্পোক দিয়ে তৈরী ক্যাঁটা দিয়ে আকাশভাঙা বৃষ্টিতে আজো বুঝি কেউ অকারনেই রাশি রাশি শোল মাছ ধরে.....................?
—“এই!”
হাতে একটা আলতো ছোঁয়া সবজেটে নীল স্বপ্নটার মাঝখান থেকে টেনে নামিয়ে আনল হাসপাতালের পার্কিংপ্লেসে।
হাতে একটা আলতো ছোঁয়া সবজেটে নীল স্বপ্নটার মাঝখান থেকে টেনে নামিয়ে আনল হাসপাতালের পার্কিংপ্লেসে।
শুভ!
এই এতক্ষনে প্রথমবার মনে হল যেন টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যাবার পুরো স্বাধীনতা আছে টুপুরের। সেই ভোররাত থেকে সবাই এসে ওকে জড়িয়ে ধরে কতবার কেঁদেছে... কতবার...
আর ও.......? ওর বুঝি কষ্ট হয় না...........? ওর বুঝি কাঁদতে নেই...........?
আর ও.......? ওর বুঝি কষ্ট হয় না...........? ওর বুঝি কাঁদতে নেই...........?
ওর হাতটাকে নিজের হাতদুটোর মধ্যে টেনে নিল শুভ... আর প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে হেরে যেতে বসা অভিমানেরা নিঃশব্দে দু’চোখ ভাসিয়ে দিল মূহুর্তে...
বুকের সব জ্বালার ঘোর কাটিয়ে দিয়ে এক পশলা বৃষ্টি নামল... আর তার মাঝে রোদের মত আলতো করে উঁকি দিয়ে গেল কয়েকটা ছেঁড়া ছেঁড়া শব্দ,
বুকের সব জ্বালার ঘোর কাটিয়ে দিয়ে এক পশলা বৃষ্টি নামল... আর তার মাঝে রোদের মত আলতো করে উঁকি দিয়ে গেল কয়েকটা ছেঁড়া ছেঁড়া শব্দ,
—“......... আমি............ আমি ফিরব শুভ... আমি যাবো. . . . . . ”
[শেষ]
Tag :
একটু বড় গল্প,
আবার যদি ইচ্ছে কর / পাঁচ
By : Sayantari Ghoshপাঁচ
“উইশ পয়েন্ট…!!!”
হাতদুটো হাওয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে, চোখ বন্ধ করে, একটা লম্বাআআ শ্বাস নিয়ে ঘোষণা করলো পারো।
হাতদুটো হাওয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে, চোখ বন্ধ করে, একটা লম্বাআআ শ্বাস নিয়ে ঘোষণা করলো পারো।
কোমর-অব্দি উঁচু শুকনো ঘাসের জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সেইই পাথরটায় এসে পড়েছি ততক্ষণে… সেই যে এক পূর্ণিমায় হেম আমাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছিল এই এক্কেবারে নিজেদের স্বপ্নরাজ্যের, তারপর থেকে এখানটা হয়েগেছিল আমাদের আলো-আঁধারের নিশ্চিন্ত আশ্রয়। রাস্তা’টা যে একেবারে আমাদের নিজেদের আবিষ্কার, সেটা বুঝেছিলাম সেইরাতের কিছুদিন বাদেই; আমরা ছাড়া এ পথের ঘাস আর কেউ মাড়াতো না। এই পাথরের ওপরে বসে দেখা প্রতিটা সূর্যাস্ত, বলা প্রতিটা কথা, প্রতিটি হাসির ঝর্ণা, প্রতিটি চোখের জলের ফোঁটা, রাগ-ঝগড়া-খুনসুটির জিগস পাজলের প্রতিটি ব্লক ছিল শুধু আমাদের। চোখের সামনে শুধু গালে হাত দিয়ে বসে দূঊঊর থেকে সব শুনতো লোহিত হস্টেল আর কোল ছুঁয়ে বিছিয়ে রাখত তার সবুজে সবুজ আঁচল। সন্ধ্যে হতে হতে রাত হয়ে যেত এখানে এলেই; লোহিতে আলো জ্বলত ধীরে ধীরে, আমরা ফিরতি পথ ধরতাম তখন।
আজো সুর্য ঢলে পড়েছে প্রায় আলিস্যি’তে। সকাল থেকেই তো তার চোখ ঢুলুঢুলু। এখানে আসার মানেই আগে ছিল নিখাদ আড্ডার ইচ্ছে বা সবার থেকে সরে এসে চিত্কার করে কিছু বলবার প্রয়োজন… আজো তেমনি ভেবেছিলাম সকালে। কিন্তু এখানে পৌঁছে খেয়াল করলাম, একা পারো ছাড়া কেউ যেন কথা বলছে না কিছু। পাথরটার উপরে উঠে বসলাম তিনজনে, মেঘে মেঘ পশ্চিম আকাশে, হাজারো রঙ মাখামাখি লোহিতের গায়ে… পড়ন্ত আলো আমাদের মুখে পড়ছিল, পারো বলছিল, “মনে আছে, ফেয়ারওয়েলের আগের দিন এখানে এসেছিলাম? আর আই টোল্ড ইউ টু উইশ সামথিং…? মনে আছে?”
আজো সুর্য ঢলে পড়েছে প্রায় আলিস্যি’তে। সকাল থেকেই তো তার চোখ ঢুলুঢুলু। এখানে আসার মানেই আগে ছিল নিখাদ আড্ডার ইচ্ছে বা সবার থেকে সরে এসে চিত্কার করে কিছু বলবার প্রয়োজন… আজো তেমনি ভেবেছিলাম সকালে। কিন্তু এখানে পৌঁছে খেয়াল করলাম, একা পারো ছাড়া কেউ যেন কথা বলছে না কিছু। পাথরটার উপরে উঠে বসলাম তিনজনে, মেঘে মেঘ পশ্চিম আকাশে, হাজারো রঙ মাখামাখি লোহিতের গায়ে… পড়ন্ত আলো আমাদের মুখে পড়ছিল, পারো বলছিল, “মনে আছে, ফেয়ারওয়েলের আগের দিন এখানে এসেছিলাম? আর আই টোল্ড ইউ টু উইশ সামথিং…? মনে আছে?”
ও বলতে মনে পড়লো বটে। সেদিনই ও এখানটাকে উইশ পয়েন্ট নাম দিয়েছিল; পাথরের উপরটায় দাঁড়িয়ে চিত্কার করেছিল, “আ-ই............ ল-ভ.......... আ-লো-ও-ক................!!!”
আমি আর হেম পারতপক্ষে খালি হাসাহাসি করেছিলাম ওর পাগলামিতে… তারমাঝে তেমন কোন ইচ্ছেবর চেয়েছিলাম বলে মনে পড়লো না।
আমি আর হেম পারতপক্ষে খালি হাসাহাসি করেছিলাম ওর পাগলামিতে… তারমাঝে তেমন কোন ইচ্ছেবর চেয়েছিলাম বলে মনে পড়লো না।
হঠাত্ হেম মাথা রাখল আমার কাঁধে...
ভাবছিলাম ঝগড়া করবে, রাগ করবে, এমন পাগলামি করবে ভাবিনি একেবারে। তাহলে কি আর কিছু ভেবে চুপ ছিল এতক্ষণ? তাহলে কি হেম বোঝেনি সেভাবে?
ভাবছিলাম ঝগড়া করবে, রাগ করবে, এমন পাগলামি করবে ভাবিনি একেবারে। তাহলে কি আর কিছু ভেবে চুপ ছিল এতক্ষণ? তাহলে কি হেম বোঝেনি সেভাবে?
“রিনি”, খুব ধীরে ধীরে বলল হেম, “পারো…”
“হুম্ম্…?”, পারো বলল…
“আই নীড টু সে সামথিং... আবাউট দ্যাট অঙ্কুর ইন্সিডেন্ট…”
“হুম্ম্…?”, পারো বলল…
“আই নীড টু সে সামথিং... আবাউট দ্যাট অঙ্কুর ইন্সিডেন্ট…”
নিশ্চিন্তি…! একটা চূড়ান্ত নিশ্চিন্তিতে যেন জুড়িয়ে এল ভিতরটা… হেম বোঝেনি!
হাত বাড়িয়ে ওর মাথায় হাত’টা রাখলাম, বললাম, “কি রে?”
হাত বাড়িয়ে ওর মাথায় হাত’টা রাখলাম, বললাম, “কি রে?”
“রিনি, আমি… আমি অঙ্কুরকে যেটা বলেছিলাম… দ্যাট আই লাভ সামওয়ান এলস… দ্যাট থিং… দ্যাট ওয়াজ নট রং…”
“কি?!” অবাক হয়ে তাকালাম ওর দিকে। এরকম কিছু তো ছন্দে অংশেও ভাবিনি আমি, “কি বলছিস সোনা?সো দ্যাট ওয়াস ট্রু...?! হু ইস দ্যাট গাই…?”
আস্তে আস্তে কাঁধ থেকে মাথা’টা তুলে সোজা সামনে তাকাল হেম। সূর্য’টা পুরোপুরি মেঘের আড়ালে এখন; গাঢ় করে একটা নিশ্বাস নিল হেম, “জানিস, যখন সেদিন অঙ্কুরের সাথে দ্যাখা করতে গেছিলাম, ওর সব কথায়, সব প্রশ্নে, সব উত্তরে আমি যেন কিছু একটা খুঁজছিলাম… কি যে ছিল সেটা, তখন বুঝিনি… পরে মনে হল, তার উত্তর ছিল ইউনিভার্সিটির দিনগুলো’তে, সেই নিখাদ খুনসুটিগুলোতে, পার্টির মিটিংগুলোতে, একই দাবী নিয়ে গলা ফাটানো’তে… র্যালি বা স্ট্রাইকের সময়, যখন নিশুতি রাত হয়ে যেত, কিম্বা পুলিশ আসত ধর্ণা তুলে দিতে, কিম্বা কেউ এসে সাস্পেনশন লেটার ছুঁড়ে দিত মুখের ওপর... ভয় লাগত, কাউকে বলতে-না-পারা ভয়... তোরা দু’জন থাকতি না তো সেই মূহুর্তে... তখন জানিস না কি সাঙ্ঘাতিক ভাবে ওকে ফিল করতাম... মনে হত কিরকম যেন আলগোছে আগলে রাখতো ও আমায়… …”
“কি?!” অবাক হয়ে তাকালাম ওর দিকে। এরকম কিছু তো ছন্দে অংশেও ভাবিনি আমি, “কি বলছিস সোনা?সো দ্যাট ওয়াস ট্রু...?! হু ইস দ্যাট গাই…?”
আস্তে আস্তে কাঁধ থেকে মাথা’টা তুলে সোজা সামনে তাকাল হেম। সূর্য’টা পুরোপুরি মেঘের আড়ালে এখন; গাঢ় করে একটা নিশ্বাস নিল হেম, “জানিস, যখন সেদিন অঙ্কুরের সাথে দ্যাখা করতে গেছিলাম, ওর সব কথায়, সব প্রশ্নে, সব উত্তরে আমি যেন কিছু একটা খুঁজছিলাম… কি যে ছিল সেটা, তখন বুঝিনি… পরে মনে হল, তার উত্তর ছিল ইউনিভার্সিটির দিনগুলো’তে, সেই নিখাদ খুনসুটিগুলোতে, পার্টির মিটিংগুলোতে, একই দাবী নিয়ে গলা ফাটানো’তে… র্যালি বা স্ট্রাইকের সময়, যখন নিশুতি রাত হয়ে যেত, কিম্বা পুলিশ আসত ধর্ণা তুলে দিতে, কিম্বা কেউ এসে সাস্পেনশন লেটার ছুঁড়ে দিত মুখের ওপর... ভয় লাগত, কাউকে বলতে-না-পারা ভয়... তোরা দু’জন থাকতি না তো সেই মূহুর্তে... তখন জানিস না কি সাঙ্ঘাতিক ভাবে ওকে ফিল করতাম... মনে হত কিরকম যেন আলগোছে আগলে রাখতো ও আমায়… …”
চোখের সামনে’টা এক্কেবারে ঝাপসা হয়ে গেল সাথে সাথে; বৃষ্টিধোয়া ফেডেড সবুজ ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা বি-শা-ল হোর্ডিঙের মত দুলতে লাগল সাবরমতির সেই শিরশিরে রাতের ছবিটা আবার... ছবির পিছনে একটা আলো যেন খ্যাপার মত জ্বলছে আর নিভছে... ফ্ল্যাশ... ব্লার... ফ্ল্যাশ, ফ্ল্যাশ... ব্লার...
“আমি কাউকে বলতে পারিনি, রিনি…”, গরম এক ফোঁটা নোনতা জল হেমের গাল বেয়ে এসে পড়ল আমার হাতে, “আমার বুঝতে খুব দেরি হয়ে গেছিল রে… অঙ্কুরের কথা ভাবতে গিয়ে কি মনে হল জানিস? যে রুদ্র আমায় পেরিয়ে কবে চলে গেছে, কিন্তু আমি এখনও ওর পিছনে পড়ে থাকা ছায়া’টার ভেতরে খুব আরামে বসে আছি এখনও… সে ছায়াটুকু যদ্দিন না পেরিয়ে যাচ্ছে, যদ্দিন না কড়া রোদ এসে পড়ছে আমার গায়ে, আমার মনেই হবে না যে আমার আর কাউকে দরকার… সবকিছু এমন নিটোল ভাবে সামলে নিতো ও… …”
আবার অন্ধকার ঘর; আবার দেওয়ালজোড়া স্ন্যাপশট… চলন্ত ট্রেনে, কাঁপা কাঁপা হাতের লেখায় লেখা একখানা ডায়েরির পাতা, যা গত আড়াই বছরে কে জানে কতবার, কত অজস্রবার পড়েছি…
“ছেলেটাকে যত চিনেছি দিনে দিনে, মনে হয়েছে, যত ভরসা ওকে করেছি এতদিন, সে আমার ইচ্ছে হয়েছে বলে করেছি। যতবার ভেবেছি আমায় বুঝছে, সে'সব আমার কল্পনা করার সখ বই আর কিছুনা! কোনোদিন, আমায় ভরসা দেওয়ার মত কিছু কি করেছে ও?
ও যে কত কেঁদেছে কে জানে আমার চেয়ে বেশি? তবু যখন সেই খুব চেনা হাসিমুখগুলো ভাবি, বিজয়ার প্রণাম আর অবাধ স্বাধীনতার প্রশ্রয় ভাবি, পিঠে-গড়ার জরুরী ফরমায়েশে ওদের রান্নাঘরে আমার রান্নায় হাতেখড়ি ভাবি, একটা কথাই খালি দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে চিত্কার করে ফেরে ঘর জুড়ে… একটাই ইকো… ‘ও সামলাতে পারবে না…’ …”
ও যে কত কেঁদেছে কে জানে আমার চেয়ে বেশি? তবু যখন সেই খুব চেনা হাসিমুখগুলো ভাবি, বিজয়ার প্রণাম আর অবাধ স্বাধীনতার প্রশ্রয় ভাবি, পিঠে-গড়ার জরুরী ফরমায়েশে ওদের রান্নাঘরে আমার রান্নায় হাতেখড়ি ভাবি, একটা কথাই খালি দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে চিত্কার করে ফেরে ঘর জুড়ে… একটাই ইকো… ‘ও সামলাতে পারবে না…’ …”
“আমি তোদের তারপরেও বলতে পারতাম, রিনি”, কান্না চাপতে গিয়ে কথাগুলো ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে এবার হেমের, “… পারিনি… খালি এটা ভেবে... এটা ভেবে... যে হয়তঃ… তুই হয়তঃ… ...”
“চুপ, চুপ, সোনা”, আর পারলাম না ওকে এসব বলতে দিতে, আর সইল না আমার। আমায় জড়িয়ে ধরে সবটুকু চাপাকান্না বাইরে এনে ফেললো হেম। আমারো চোখের জল আগুনের মতন গরম মনে হল। আগুনও হতে পারে... বালির মতন ধূ ধূ থেকে জল নইলে আসবে কি করে?
পারো কতটা কি বুঝলো জানি না, হেম’কে দেখলাম ছুঁয়ে আছে আলতো করে।
পারো কতটা কি বুঝলো জানি না, হেম’কে দেখলাম ছুঁয়ে আছে আলতো করে।
কতক্ষণ এভাবে পেরিয়ে গেল জানিনা। হেম কাঁদতে কাঁদতে চুপ করে গেছে একসময়। আমার মাথার ভেতর’টা বাংলা ক্লাসের খাতার শেষপাতার মত হিজিবিজি’তে ভর্তি মনে হচ্ছিল… কিছু পোর্ট্রেট, খাপছাড়া… তার ওপর লেখা কিছু নাম… কয়েকটা তারিখ… কিছু গানের লিরিক্স… কিছু টুকরো টুকরো করে ছেঁড়া ছবি… তার ওপরে পেন দিয়ে আঁকা কারো মুখের শুধু আদলটুকু… আরো নাম... একই নাম... বারবার...
“তোরা সেদিন কোনো উইশ করিস নি, না?”
আচমকা প্রশ্ন’টাতে কোন কূলকিনারা করে উঠতে পারলাম না… পারো কিছু বলছে। কি বলছে? কি নিয়ে? বোকার মত তাকালাম ওর দিকে… ওর কথাগুলো মাথার ভেতর অব্দি পৌঁছায়নি যেন এখনও…
“সেদিন… ফেয়ারওয়েলের আগের দিন…”, আমাদের দিকে তাকিয়ে যেন ভীষণ অভিমানী মুখ করে পারো বলল।
হেম’কে দেখলাম চুপ করে গেছে; কাঁধে মাথা রেখে শুয়ে আছে শুধু, ও খাপছাড়া ভাবে বলল, “সেদিন…?”
হেম’কে দেখলাম চুপ করে গেছে; কাঁধে মাথা রেখে শুয়ে আছে শুধু, ও খাপছাড়া ভাবে বলল, “সেদিন…?”
পারো রাগ করে মুখ ঘুরিয়ে নিল জঙ্গলের দিকে। বুঝলাম আমাদের এই কান্নাকাটি খুব একটা বোধগম্য হয়নি ওর।
হেমের দিকে তাকিয়ে দেখি চোখের কোল ফুলে ফুলে উঠেছে ওর; খুব গাঢ় করে চোখের বাইরে দিয়ে কাজল পরে ও, সঅঅব ধেবড়ে গেছে... তবু খুব মিষ্টি দ্যাখাচ্ছে ওকে, বললাম, “ঠিক লাগছে একটু? হুম?”
“হুমম…”, সায় দিল হেম, তারপর খুব ধীরে ধীরে বলল, “রিনি... তুই কখনও ভেবেছিলি যে পারো আর আলোকের রিলেশন’টা বিয়ে অব্দি গড়াবে?”
“হুমম…”, সায় দিল হেম, তারপর খুব ধীরে ধীরে বলল, “রিনি... তুই কখনও ভেবেছিলি যে পারো আর আলোকের রিলেশন’টা বিয়ে অব্দি গড়াবে?”
কে জানে কেন একথা’টা মনে এল ওর! একটু হেসে বললাম, “আমরা কি ভেবেছি তাতে কি আসে যায় ডিয়ার? আমি ভাবিনি, তুই ভাবিস নি, পারো তো ভেবেছে… শী উইশড ফর দ্যাট সো সিনসিয়ারলি… আর সবচে’ বড় কথা কি বল ত? শী হ্যাড দ্য ট্রাস্ট…”
বলতেই কেমন যেন লাগল হঠাত… যেন কথাটা ঘুরে এসে আমারই সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে বলছে, ‘দ্যাখো তো, চিনতে পারো...?’
নির্জলা এই সত্যি’টা ভাবিনি যেন এভাবে আগে… আর কিছু তো ছিল না ত্রিসীমানায়… যা যা লাগে বলে ভেবেছিলাম আমরা... কিচ্ছু তো ছিল না...
নির্জলা এই সত্যি’টা ভাবিনি যেন এভাবে আগে… আর কিছু তো ছিল না ত্রিসীমানায়… যা যা লাগে বলে ভেবেছিলাম আমরা... কিচ্ছু তো ছিল না...
পারো খালি বিশ্বাসটুকু রেখেছিল সামলিয়ে… খালি বিশ্বাসটুকু... আমরা পেরেছি কই?
দেখলাম হেম’ও হাসছে আমার দিকে তাকিয়ে, একই কথা ভাবছে নিশ্চয়ই…
ডানহাত’টা দিয়ে ওর চোখদুটো ঢাকা দিয়ে দিলাম, আর বাঁ হাতের তালুর নিচে রেখে বন্ধ করলাম নিজের চোখদুটো…
তারপর আস্তে আস্তে বললাম, “লেটস ট্রাই এগেন… মেক আ উইশ… …”
তারপর আস্তে আস্তে বললাম, “লেটস ট্রাই এগেন… মেক আ উইশ… …”
[শেষ]
Tag :
একটু বড় গল্প,
ফেরা / চার
By : Sayantari Ghosh
চার
হাসপাতালটা জুড়ে একটি মেয়ের মোলায়েম গলা মাঝেমধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে... একতলার রিসেপসন থেকে সেই কন্ঠস্বর অনাগত অনাহুত ভবিতব্যের কথা ইঙ্গিতে বলে দেয় প্রায়শই...
—“রিলেটভ্স্ অফ দ্য পেশেন্ট ইন বেড নাম্বার ‘দিস’ অফ আই.সি.ইউ আর রিকোয়েস্টেড টু কাম অ্যাট দ্য রিসেপসন। দ্য ডক্টর নিড্স্ টু টক... ইট্স্ অ্যান এমারজেন্সি...”
তিনতলার লাউঞ্জে বসে কান পেতে থাকে দিনরাত-জাগা একদল মানুষ... বুকে শুধু প্রার্থনা... “কোনোভাবে ওই কন্ঠস্বরে যেন ওর নাম না থাকে!!” লাউঞ্জটা বদলায় না... পাঁচদিনে এ ব্যাপারটা খেয়াল করেছে টুপুর... মুখগুলো পালটে যায় খালি... চোখের ক্লান্তি দিনে দিনে বাড়ে... কথাকে সরিয়ে দিয়ে নীরবতা জিতে যায়... তারপর হুট করে একদল মানুষের কালিপড়া মুখ একদিন অদৃশ্য হয়ে যায় লাউঞ্জের ক’টা চেয়ার খালি করে দিয়ে... গল্পের বাকিটুকু বাকিরা বুঝে নেয় বিনা চেষ্টায়... দীর্ঘশ্বাস বলে দেয়, কোন একটি গল্প চিরতরে ফুরিয়ে গেছে...!
টুপুর আর শুভ হাসপাতালে পা রাখা মাত্র ভীষণ শব্দ করে একটা বাজ পড়ল কোথাও... একেবারে ভিতরে কোথাও একটা রিন্রিনে কাঁপুনি ধরিয়ে দিল যেন... আর সঙ্গে সঙ্গে হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নেমে গেল... যেন ওদের জন্যই পুরো ব্যাপারটা থেমে ছিল এতক্ষণ।
এগিয়ে গিয়ে একটা খালি চেয়ারে বসল টুপুর। শুভকে হাতছানি দিয়ে ডেকে নিলেন প্রভাসকাকু; বোধহয় বিলিং সেকশনে যেতে হবে! এদিকে তিনটে থেকে ভিজিটিং আওয়ার। পুরো সময়টাতে জাস্ট একজনকে ঢুকতে দেয়... কথা নয়, ছোঁয়া নয়, শুধু এককোনে দাঁড়িয়ে দেখা আর ফিরে আসা... তবুও... দেখতে ইচ্ছে টুপুরেরও করেছে, বার বার। কিন্তু............ হয় নি!
মাথাটাকে দুহাত দিয়ে ধরে মেঝের টাইল্সে চোখ রাখল টুপুর। আজ আবার হয়তঃ বড়পিসি যেতে চাইবে। দেখে এসে আবার কান্নাকাটি করবে। কাউকে ওভাবে কাঁদতে দেখলে ভয়ানক অসহায় লাগে নিজেকে... খুব খুব রাগ হয়... অথচঃ কার ওপরে রাগ, সেটাই ঠিক বোঝা যায় না!
কাঁধে একটা ছোঁয়া পেয়ে চোখ খুলল টুপুর। বাপি।
—“কিছু বলবে বাপি?”
আস্তে আস্তে হাতটা ওর মাথায় দিল বাপি, “আজ যাবি তুই ভিতরে? দেখে আসবি একবার?”
চুপ করে বাপির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল টুপুর; তারপর হাত বাড়িয়ে বাপির হাতটা শক্ত করে ধরল...
মাঝেমাঝে কি করে কে জানে বাপি এত বোঝে ওকে? কি করে কে জানে এত হিসেবের মাঝেও ওর মনের এতটুকু ভালোলাগার কথা মনে রাখে...? এখনও মাঝে মাঝে তাই ছোট্টবেলার মত বলে উঠতে ইচ্ছে করে, “আমি আমার বাপির মতন হব!” মনে মনে নয়... জোরে বলে উঠতে ইচ্ছে করে...!
মাঝেমাঝে কি করে কে জানে বাপি এত বোঝে ওকে? কি করে কে জানে এত হিসেবের মাঝেও ওর মনের এতটুকু ভালোলাগার কথা মনে রাখে...? এখনও মাঝে মাঝে তাই ছোট্টবেলার মত বলে উঠতে ইচ্ছে করে, “আমি আমার বাপির মতন হব!” মনে মনে নয়... জোরে বলে উঠতে ইচ্ছে করে...!
—“এখন তো সবে দেড়টা... একটু রেস্ট করে নে... চুপ করে চোখ বন্ধ করে থাক একটু... ঘুম এলে ঘুমিয়ে নে... আমি ডেকে দেব ঠিক সময়ে...”, বলে আলতো করে একটু হাসলো বাপি।
কোণের চেয়ারটায় বসে দেয়ালজোড়া কাঁচটার দিকে চোখ ফেরালো টুপুর... গোটা দেয়ালটা জুড়ে আল্পনার খেলায় মেতেছে বৃষ্টি... বাকি সব ভুলে গিয়ে, স্মৃতি হাতড়িয়ে, কারো খুব চেনা মুখ আঁকতে চাইছে যেন জলছবি করে... এরকম বৃষ্টি দেখলেই ছুটে গিয়ে ভিজতে ইচ্ছে করে... মনে হয় সবটুকু কালি মুছে যাবে তাহলেই... অপেক্ষা, দুশ্চিন্তা, হিসেব, প্রমাণ— এসব কালো শব্দগুলো সব ধুয়ে যাবে... কাঁচের ওপার থেকেই চোখের ওপর দিয়ে ভেজা হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলো বৃষ্টির ফোঁটাগুলো... একটা শান্তি আস্তে আস্তে পেয়ে বসছিল যেন... শান্তি না কি ক্লান্তি কে জানে... কিন্তু বেশ লাগছিল ডুবে যেতে...
চোখ বন্ধ করল টুপুর... দাদুমনি ঠিক আছে আজ... আজই ও দেখে আসবে একবার... কে জানে দাদুমনি জেগে থাকবে কি না... ওকে দেখলে নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে... যদি কিছু বলা যায়, কি বলবে টুপুর...? কি বললে দাদুমনি আরও জোর পাবে মনে...? নাঃ থাক... কিছু বলবে না... শুধু থাম্বস্ আপ... একবার...
ভেবেই ঠোঁটের কোনে এক চিলতে হাসি খেলে গেল... একটা অকারণ ভালোলাগা মনের দখল নিয়ে নিল আস্তে আস্তে... আর বহুযুগ ধরে নির্বাসনে থাকার পর একটুকরো ঘুম কোত্থেকে এসে জড়িয়ে ধরল চোখদুটোকে...
ভেবেই ঠোঁটের কোনে এক চিলতে হাসি খেলে গেল... একটা অকারণ ভালোলাগা মনের দখল নিয়ে নিল আস্তে আস্তে... আর বহুযুগ ধরে নির্বাসনে থাকার পর একটুকরো ঘুম কোত্থেকে এসে জড়িয়ে ধরল চোখদুটোকে...
......................................................................................................................
—“দিদিভাই!”, কে যেন ঝাঁকুনি দিল টুপুরের ডানহাতটা ধরে, “সি.সি.ইউ, বারো নম্বরের বাড়ির লোককে ডাকছে নিচে রিসেপশনে... বাপি একা চলে গেল... তুই যা দিদিভাই...”
নূপুরের চোখ জুড়ে খালি উদ্বেগ আর উদ্বেগ... যন্ত্রচালিতের মত উঠে দাঁড়াল টুপুর... নূপুরকে দেখে মনে হল ভরসা, শুধু একটু ভরসা ও খুঁজছে বেপরোয়া হয়ে... কি বলা যায়? কিছু কি বলা যায়? গলা কেঁপে গেলে.........?
হাত বাড়িয়ে ওর হাতটা ধরল টুপুর...
—“ভয় পাস না... কিচ্ছু হবে না... যাচ্ছি আমি...”
—“ভয় পাস না... কিচ্ছু হবে না... যাচ্ছি আমি...”
ছুট! ছুট! ছুট!
লিফটটা ছয় আর সাততলার মাঝামাঝি কোথাও ঘুরপাক খাচ্ছে...
সিঁড়ি...??? সিঁড়িটা যেন কোনদিকে...?!
লিফটটা ছয় আর সাততলার মাঝামাঝি কোথাও ঘুরপাক খাচ্ছে...
সিঁড়ি...??? সিঁড়িটা যেন কোনদিকে...?!
রিসেপসনের সামনে বাপিকে দেখা গেল বটে... সামনে থমথমে মুখে ডক্টর পারেখ্... তিনতলা থেকে নেমে আসতে তিন মিনিটও লাগেনি টুপুরের... অথচঃ এই কুড়ি পা দূর,বহু বহু দূর মনে হচ্ছিল যেন...
দু-চার পা দূর থেকেই টুকরো কিছু কথা উড়ে আসতে লাগল কানে, “... আণ্ড দেন সাড্নলি হি ওয়াস স্ট্রাগলিং...... উই ট্রায়েড আওয়ার লেভেল বেস্ট... বাট উনি পারছিলেন না... তাই ফাইনালি আমরা বাধ্য হয়েই... উই নেভার প্রেফার দিস ওভার এনি আদার অপ্শন... বাট...”
আর পারা গেল না...
—“কি হয়েছে বাপি? কি...?”
—“কি হয়েছে বাপি? কি...?”
কয়েক মূহুর্ত চুপ করে থেকে একটা মাত্র শব্দ বলল বাপি,
—“ভেন্টিলেশন!”
—“ভেন্টিলেশন!”
...........................................................................................
ভীষণ শব্দ করে একটা বাজ পড়ল কোথাও... একেবারে ভিতরে কোথাও একটা রিন্রিনে কাঁপুনি ধরিয়ে দিল যেন... !!
Tag :
একটু বড় গল্প,